দো‘আর অর্থ ,দো‘আ কবুলের সময় ও স্থান

0
73

দো‘আর অর্থ

দো‘আ অর্থ চাওয়া, প্রার্থনা করা ইত্যাদি। অর্থাৎ সাধারণ ব্যক্তি কর্তৃক বড় কোন ব্যক্তির নিকট ভয়-ভীতি সহকারে বিনয়ের সাথে নিবেদন করা। দো‘আ অর্থ ডাকা। আললাহ− বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব’ (মুমিন ৬০)। দো‘আ অর্থ ইবাদত করা। আ্লহ− বলেন, ‘তুমি আললাহ− ব্যতীত এমন কারো ইবাদত করো না, যে তোমার ভাল-মন্দ কিছুই করতে পারে না’ (ইউনুস ১০৬)। দো‘আ অর্থ বাণী। আল্লাহ বলেন, ‘সেখানে তাদের বাণী হ’ল, ‘হে আললাহ!− আপনি পবিত্র; আর তাদের শুভেচ্ছা হ’ল সালাম’ (ইউনুস ১০)। দো‘আ অর্থ আহ্বান করা। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে’ (ইসরা ৫২)। দো‘আ অর্থ অনুনয়-বিনয় করা। আললাহ− বলেন,  ‘তোমরা তোমাদের সাহায্যকারীদেরকে বিনয়ের সাথে ডাক’ (বাক্বারাহ ২৩)। দো‘আ অর্থ প্রশংসা সহকারে ডাকা। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, আমি আল্লাহর − প্রশংসা করি অথবা রহমানের প্রশংসা করি’ (ইসরা ১১০; মির‘আত, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৯৪)।

দো‘আ কবুলের সময় ও স্থান

(১) লাইলাতুল ক্বদর দো‘আ কবুলের অন্যতম সময় : আল্লাহ − তা‘আলা লাইলাতুল ক্বদরকে এক হাযার মাসের চেয়ে উত্তম বলেছেন (ক্বদর ৩)। রাসূলুলাহ− (ছাঃ) ইবাদতের জন্য লাইলাতুল ক্বদরকে খুঁজতে বলতেন এবং নিজে লাইলাতুল ক্বদরে সিজদা করতেন (বুখারী, আলবানী, মিশকাত, হা/২০৮৬ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘লাইলাতুল ক্বদর’ অনুচ্ছেদ)। রাসূলুল−াহ (ছাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে লাইলাতুল ক্বদরে নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়তে বলেন,

(আল−-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুব্বুন তুহি:ব্বুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী)

‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমাকে ভালবাসেন, কাজেই আমাকে ক্ষমা করুন’ (আহমাদ, তিরিমিযী, ইবনু মাজাহ, সনদ ছহীহ, তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/২০৯১)।

রাসূল (ছাঃ) লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করতেন এবং স্বীয় পরিবারকে ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন

(২) আরাফার মাঠে : উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন, আমি আরাফার মাঠে রাসূলুল−াহ (ছাঃ)-এর সওয়ারীর পিছনে ছিলাম, তিনি সেখানে দু’হাত তুলে দো‘আ করলেন’ (ছহীহ নাসাঈ, হা/৩০১১ ‘আরাফার মাঠে দু’হাত তুলে দো‘আ করা’ অনুচ্ছেদ, ‘হজ্জ’ অধ্যায়)। অন্যত্র বর্ণিত আছে, আল্লাহ− তা‘আলা আরাফার দিন মানুষকে সবচেয়ে বেশী জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন এবং ফেরেশতাগণের সামনে গৌরব করে বলেন, ‘এ সকল মানুষ (আরাফার মাঠে) কি চায়? অর্থাৎ যা চায় তাই প্রদান করা হবে’

(মুসলিম, ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/২৪৫৮; মিশকাত হা/২৫৯৪, ‘আরাফার মাঠে অবস্থান’ অনুচ্ছেদ)।

(৩) ছাফা-মারওয়া পাহাড়ের উপর : জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল−াহ (ছাঃ) ছাফা পাহাড়ের উপর উঠে তিনবার বললেন,

উচ্চারণ : লা-ইলা-হা ইল−াল−-হু ওয়াহ্:দাহূ লা-শারীকালাহূ লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হ:াম্দু ইউহ:ই ওয়া ইউমীতু ওয়াহুয়া ‘আলা- কুলি− শাইইং ক্বদীর।

অর্থ : ‘আল্লাহ− ব্যতীত কোন হক্ব মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর হাতে, প্রশংসা একমাত্র তাঁর। তিনি জীবন দান করেন এবং তিনি মরণ দান করেন, তিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী’।

অতঃপর আল্লাহু− আকবার বললেন ও আল-হামদুলিলাহ− বললেন এবং তাঁর শক্তি-সামর্থ্য অনুপাতে দো‘আ করলেন। অনুরূপ মারওয়া পাহাড়ে উঠে বললেন,

(লা-ইলা-হা ইল−াল−-হু ওয়াহ:দাহূ লা-শারীকালাহূ লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হ:াম্দু ওয়াহুয়া ‘আলা- কুলি− শাইইং ক্বদীর।)

তারপর আলহামদুলিল্লাহ এবং সুবহানাল্লাহ লা ইলাহা ইল্লল্লাহ,  বললেন। অতঃপর আলাহর−ইচ্ছা অনুযায়ী দো‘আ করলেন (ছহীহ নাসাঈ, হা/২৯৭৪, অনুচ্ছেদ ১৭২, ‘হজ্জ’ অধ্যায়, সনদ ছহীহ)।

(৪) ‘বায়তুলাহ’− বা কা‘বা ঘরকে দেখে দো‘আ : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল−াহ (ছাঃ) মক্কায় প্রবেশ করে ‘হাজারে আসওয়াদ’ বা কাল পাথরের পাশে এসে পাথরটিকে চুম্বন করলেন, বায়তুললাহ− ত্বাওয়াফ করলেন এবং ছাফা পাহাড়ে উঠে বায়তুল্লার দিকে মুখ করে হাত তুলে দো‘আ, যিকির ও প্রার্থনা করতে লাগলেন (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/১৮৭২; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/২৫৭৫ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)।

(৫) ছিয়াম অবস্থায় : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুলাহ− (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের দো‘আ ফেরত দেওয়া হয় না। তন্মধ্যে একজন হচ্ছে ছিয়াম পালনকারী, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ইফতার করে’ (ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/১৪৩২ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, সনদ ছহীহ)।
(৬) জুম‘আর দিনে : আবু লুবাবা ইবনু আব্দুল মুনযের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল−াহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘জুম‘আর দিন এমন একটি সময় আছে, যে সময়ে বান্দা কিছু চাইলে আলাহ− তাকে তা প্রদান করেন’ (ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/৮৯৫; সনদ হাসান,
মিশকাত হা/১৩৬৩, ‘ছালাতুল জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ)। আবদুলাহ− ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর  কিতাবে জুম‘আর দিনে এমন একটি সময় পাই, যে সময়ে বান্দা ছালাত আদায় করে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার প্রার্থনা কবূল করেন (ছহীহ আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হা/৯৪১; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১৩৫৯)।

ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত যে, দো‘আ কবুলের চূড়ান্ত সময় হচ্ছে ইমাম ছাহেবের মিম্বরে বসা হ’তে ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম, বুলূগুল মারাম হা/১৩৫৯)। অন্য বর্ণনায় আছে, আছর হ’তে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (ইবনু মাজাহ, বুলূগুল মারাম হা/৪৫৪)।

(৭) হজ্জ পালনকালে পাথর নিক্ষেপের পর : রাসূলুল−াহ (ছাঃ) শেষের দু’দিন পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং অনুনয়-বিনয় করে দো‘আ করতেন’ (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/১৯৭৩; ‘মানাসিক’ অধ্যায়, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি পশ্চিম মুখী হয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে হাত উঠিয়ে প্রাথর্না করতেন
(বুখারী হা/১৭৫৩; নাসাঈ, হা/৩০৮৩ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)।

(৮) রাতে : মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ  (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি ওযূ করে দো‘আ পড়ে রাতে শয্যা গ্রহণ করে, তারপর শেষ রাতে উঠে সে আলাহর− নিকট যা চায়, আললাহ− তাকে তা প্রাদান করেন’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত, হা/১২১৫ ‘রাতে জাগ্রত হয়ে কি বলবে’ অনুচ্ছেদ)।

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল−াহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আললাহ− তা‘আলা প্রত্যেক রাতের দুই-ততীয়াংশেরৃ পর প্রথম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দিব, যে আমার নিকট চাইবে আমি তাকে দান করব, যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব’ ( বুখারি,মুসলিম,মিশকাত, হা/১২২৩)।

জাবির (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুলাহ− (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘নিশ্চয়ই রাতে একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে কোন মুসলমান ইহকাল ও পরকালের কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা প্রদান করেন এবং এটা প্রতি রাতে হয়ে থাকে’ (মুস্লিম,মিশকাত হা/১২২৪)।

(৯) ছালাতের শেষে : প্রকাশ থাকে যে, ছালাতের শেষ বলতে সালামের আগে ও পরের সময়কে বুঝানো হয়। আবু উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল−াহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোন্ সময় দো‘আ সবচেয়ে বেশী কবুল হয়? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘শেষ রাতে এবং ফরয ছালাতের পরে’ (তিরমিযী, মিশকাত, হা/৯৬৮, সনদ হাসান ‘ছালাতের পর যিকির’ অনুচ্ছেদ)। উলে−খ্য যে, ফরয ছালাতের পর দো‘আ কবুল হয় অর্থ হাত তুলে দো‘আ নয়; বরং সালামের পর যে সকল দো‘আ পাঠের কথা ছহীহ হাদীছ সমূহে এসেছে, সেগুলি পাঠ করা। এ সম্পর্কে যথাস্থানে আলোচনা করা হবে ইনশাআল−াহ।

(১০) আযান ও ইক্বামতের মাঝের দো‘আ, আযান চলাকালীন ও আযানের পরে দো‘আ : আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুলাহ− (ছাঃ) বলেছেন, ‘আযান এবং ইক্বামতের মাঝের দো‘আ ফেরত দেওয়া হয় না’ (আহমাদ ৩/১৫৫; আবুদাঊদ, হা/৫২১; সনদ ছহীহ, তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৬৭১-এর টীকা নং-৩; সুবুলুস সালাম, তাহক্বীক্ব : আলবানী, হা/১৭০-এর টীকা দ্রঃ)।

আবদুলাহ− ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল−াহর রাসূল (ছাঃ)!  মুয়াযযিনদের মর্যাদা যে আমাদের চেয়ে বেশী হয়ে যাবে, তখন রাসূলুলাহ− (ছাঃ) বললেন, ‘তুমিও তাই বল, মুয়াযযিন যা বলে। তারপর আযান শেষে চাও, যা চাইবে প্রদান করা হবে’ (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/৫২৪; সনদ হাসান, মিশকাত হা/৬৭৩ ‘আযানের ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মুয়াযযিনের সাথে সাথে আযানের শব্দগুলি যে বলবে সে জান্নাতে যাবে (মুসলিম, আবুদাঊদ, হা/৫২৭; মিশকাত হা/৬৫৮)। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবে,

উচ্চারণ : আশ্হাদু আললা- ইলা-হা ইল−াল−-হু ওয়াহ্:দাহু লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রসূলুহ, রযীতু বিল্লা-হি রব্বাওঁ ওয়া বিমুহাম্মাদির রসূলাওঁ ওয়া বিল ইসলা-মি দ্বীনা।

অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আলাহ− ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহ:াম্মাদ (ছাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি আল−াহ্্কে রব হিসাবে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসাবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মেনে নিয়েছি’। তাহ’লে তার পাপ সমূহ ক্ষমা করা হবে (মুসলিম, আবুদঊদ, হা/৫২৫; মিশকাত হা/৬৬১)।

(১১) যুদ্ধের মাঠে শত্র“র সাথে মোকাবেলার সময় : রাসূলুল−াহ (ছাঃ) বলেন, ‘হে জনগণ! তোমরা যখন শত্র“র সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন আলাহর − নিকট নিরাপত্তা চাও, ধৈর্যধারণ কর এবং জেনে রেখ, নিশ্চয়ই জান্নাত তরবারীর ছায়ার নীচে’
(বুখারী, মুসলিম, আবুদাঊদ, হা/২৬৩১; মিশকাত হা/৩৯৩০ ‘কাফেরদের পত্রের মাধ্যমে ইসলামের দিকে আহ্বান’ অনুচ্ছেদ, ‘জিহাদ’ অধ্যায়)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, দু’সময় দো‘আ ফেরত দেওয়া হয় না: (১) আযানের সময় এবং (২) যুদ্ধের সময় (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/২৫৪০; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৬৭৩ ‘আযানের ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)।

(১২) সিজদার সময় : ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুৃল−াহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা সিজদায় বেশী বেশী দো‘আ কর, কেননা সিজদা হচ্ছে দো‘আ কবুলের উপযুক্ত সময়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৭৩ ‘রুকূ‘র বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মানুষ সিজদা অবস্থায় তার প্রতিপালকের সবচেয়ে বেশী নিকটবর্তী হয়। অতএব তোমরা সিজদায় বেশী বেশী দো‘আ কর’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৪ ‘সিজদাহ ও তার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। তবে সিজদায় কুরআনের আয়াত দ্বারা দো‘আ করা যাবে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৭৩)।

(১৩) ছালাতের মধ্যে তাশাহ্হুদের পর : রাসূলুলাহ− (ছাঃ) বলেন, ‘তাশাহ্হুদের পর যার যা ইচ্ছা দো‘আ করবে’ (বুখারী ১/২৫২ পৃঃ, হা/৮৩৫ ‘ছালাতের মধ্যে তাশাহ্হুদের পর ইচ্ছানুযায়ী দো‘আ করা’ অনুচ্ছেদ, ‘আযান’ অধ্যায়)।

অত্র হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ছালাতের শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বে যে কোন ধরনের দো‘আ করা যায়। চাই তা কুরআনের আয়াত হৌক অথবা হাদীছে বর্ণিত দো‘আ হৌক।

(১৪) কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দো‘আ করলে দো‘আ কবুল হয়’ (তিরমিযী,আবুদাঊদ হা/ ১৫৩৬; মিশকাত হা/২২৫০, সনদ হাসান, ‘দো‘আ’ অধ্যায়)।

(১৫) তিন শ্রেণীর লোকের দো‘আ কবুল হওয়া অবশ্যম্ভাবী : ১. পিতামাতার দো‘আ ২. মুসািফরের দো‘আ এবং ৩. মাযলূমের দো‘আ’ (আবুদাঊদ, হা/১৫৩৬;মিশকাত হা/২২৫০, সনদ হাসান)।

(১৬) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিন শ্রেণীর লোকের দো‘আ ফেরত দেয়া হয় না। ১. আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণকারীর দো‘আ, ২. মাযলূমের দো‘আ, ৩. ন্যায়পরায়ন শাসকের দো‘আ (সিলসিলা ছহীহা হা/১২১১/২৮৪৬)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিন শ্রেণীর দো‘আ রয়েছে, যা ফেরত দেওয়া হয় না। ১. পিতামাতার দো‘আ, ২. ছিয়াম পালনকারীর দো‘আ ও ৩. মুসাফিরের দো‘আ (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৭৯৭/১৮৪৫)।

পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে দো‘আ করা ও কবুলের বিভিন্ন সময় ও স্থান পরিদৃষ্ট হয়। আলামা− নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভুপালী (রহঃ) তাঁর ‘নুযূলুল আবরার’ গ্রন্থে ২২টি স্থান ও সময় উলে−খ করেছেন’ (নুযূলুল আবরার, ৪৩-৫৪ পৃঃ)। অনুরূপভাবে ছাহেবে কানযুল উম্মালও ১৮টি স্থান ও সময় উলে−খ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here